কাউখালীতে পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি অব্যাহত, হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্যসম্পদ
কাউখালীতে পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি অব্যাহত, হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্যসম্পদ
কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নদী থেকে ধরা পাঙ্গাস মাছের পোনা। এতে দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান পাঙ্গাস মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
বিশেষ করে উপজেলার আমরাজুরী ফেরিঘাট বাজার, উত্তর বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে এসব মাছ কেনাবেচা হলেও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ও খাল থেকে জেলেরা সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাসের পোনা আহরণ করছেন।
পরে অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা এসব পোনা বাজারে এনে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করতে পাঙ্গাসের পোনাকে ‘শিলং’ বা ‘টেংরা’ মাছ বলে বিক্রি করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষও না বুঝে এসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ছোট অবস্থায় পাঙ্গাস মাছ নিধন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদী-নালায় দেশীয় পাঙ্গাসের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য উৎপাদন উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মোঃ ফিরোজ বলেন, বাজারে প্রকাশ্যে পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হতে দেখছি। এগুলো বড় হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশীয় পাঙ্গাস মাছ দেখতে পাবে না। সংবাদকর্মী মাসুম বিল্লাহ বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি করছে। অনেক সময় এগুলো অন্য মাছের নাম বলে বিক্রি করা হয়। জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, পাঙ্গাসের পোনা আহরণ ও বিক্রি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কোথাও পাঙ্গাসের পোনা বিক্রির তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স